দ্রুত বাড়ছে ই-বর্জ্য। আমরা কেউই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঝুঁকির বাইরে নই। তাই জাপানের আদলে বাংলাদেশেও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ)। এরইমধ্যে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পূর্ণ গতিতে কাজ শুরুও হয়েছে। ২০২২-২০২৭ এর মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’র সদস্যদের অংশগ্রহণে ‘ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এই তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম।
শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডিস্থ বিসিএস ইনোভেশন সেন্টারে সকাল ১০টায় এই কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ইলেক্ট্রনিক বজ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য দেশে নীতিমালা প্রণিত হয়েছে। এই খাতে নিত্যনতুন কর্মক্ষেত্রের সৃষ্টি হবে। তবে নীতিমালার ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়া জরুরী। প্রযুক্তি খাতসহ ইলেক্ট্রনিক্স সংগঠনগুলোরও এই ব্যাপারে মন্তব্য রয়েছে। তবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের জন্য আজকের এই কর্মশালাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিসিএস সমসাময়িক বিষয়গুলো সদস্যদের জানাতে প্রতিনিয়ত কর্মশালার আয়োজন চলমান রাখবে।
অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিসিএস সভাপতি আরো বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তারাও এই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করতে পারবে। আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশ নারী। তাই আমি আশা করবো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নারীরা তাদের কৃতিত্বের ছাপ রাখবেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ই-বর্জ্য বলতে আমরা বৈদ্যুতিক এবং এর সাথে সম্পর্কিত ডিভাইসগুলোকে বুঝি। ই-বর্জ্যের কারণে বর্জ্য প্রবাহ বেড়ে চলেছে। গবেষণা মতে, ২০২৫ এ ই-বর্জ্যের পরিমাণ হবে ৬৫.৩ মিলিয়ন টন এবং ২০৩৫ পর্যন্ত হবে ৭৪.৭ মিলিয়ন টন। এই বাড়তি বর্জ্যের কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যহানিসহ নানা প্রকার রোগের প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। দেশেও ই-বর্জ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি বেসরকারি সমন্বয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্য বেড়ে চলেছে। তৈরি হচ্ছে ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং মার্কেট। যেসব বৈদ্যুতিক পণ্য পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তা নতুন করে আবার ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা মতে, ২০২১ এ দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন যা ২০ শতাংশ হারে প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ এনভায়রমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট এবং কালিয়াকৈর এ বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট এর পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ইতোমধ্যে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পূর্ণ গতিতে কাজ শুরু করেছে যা ২০২২-২০২৭ এর মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
এছাড়াও তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ অধিশাখা-২ এর ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন।
কর্মশালায় বিসিএস এর প্রাক্তন সভাপতি এস এম ইকবাল, সরকারি কর্মকর্তা, সমিতির সদস্য ও সদস্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাও শিক্ষক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এই কর্মশালায় স্যামসাং পরিবেশক ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স, সিম্ফোনি’র মতো প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন মূল প্রবন্ধ আলোচক।